শিক্ষাবিদ, গবেষক ও প্রাবন্ধিক যতীন সরকার কেবল একজন সাধারণ লেখক নন— তিনি যুগপ্রবর্তক শিক্ষক, সাংস্কৃতিক চিন্তক এবং বাঙালি জাতিসত্তার একনিষ্ঠ সাধক। তাঁর জীবনদর্শন, কর্মপদ্ধতি ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি শুধু প্রজন্মকে প্রভাবিত করেনি, বরং বাঙালির আত্মপরিচয়কে নতুন আলোয় দেখতে শিখিয়েছে। মানুষের অন্তর্গত ভাষা ও ভাবকে তিনি নিজের দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকাশ করতে পেরেছিলেন; এর উদাহরণ পাওয়া যায় আতর বিক্রেতার সঙ্গে ঘটে যাওয়া তাঁর জীবনের একটি ঘটনার বর্ণনায়।
শিক্ষক হিসেবে যেমন, তেমনি বাঙালি সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার সাধনায়ও তিনি ছিলেন সমান নিবেদিত। তাঁর জীবনদর্শন দাঁড়িয়ে ছিল সত্য, ন্যায় ও সাংস্কৃতিক জাগরণের ওপর। শৈশবের মানসিক পুঁজি, শিক্ষকতার অনুরাগ, লেখালেখির দায়বোধ ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের লড়াই— সব মিলিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, প্রকৃত শিক্ষকের প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ছড়িয়ে যায়। তাঁর ভাষায়, “শিক্ষক হতে হলে সারাজীবন শিক্ষার্থী হতে হবে”— যা শুধু শিক্ষার নয়, জীবনচর্চারও মূল চাবিকাঠি।
শৈশবের স্মৃতি থেকে শুরু করে লেখালেখির প্রেরণা, শিক্ষকতা, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও আত্মসমালোচনা— এসব বিষয়ে তিনি খোলামেলা আত্মপ্রকাশ করেছেন। আমার এই লেখা তাঁর আত্মস্বীকৃত নানা বক্তব্যের আলোকে রচিত।
গ্রামীণ এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি মনে করতেন, তাঁর জন্ম হয়েছিল এক চিত্তসম্পদে সমৃদ্ধ পরিবারে। এই মানসিক ঐশ্বর্যের উত্তরাধিকার পেয়েছিলেন ঠাকুরদা রামদয়াল সরকারের কাছ থেকে। মাত্র ছয়-সাত বছর বয়সেই রামদয়াল তাঁকে গীতা থেকে শুরু করে বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যজগতের বিবিধ বিস্ময়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। শৈশবেই তিনি হয়ে ওঠেন “ইঁচড়ে পাকা” চিন্তক, যা তাঁর ভবিষ্যৎ জীবন ও দর্শনের দৃঢ় ভিত্তি গড়ে দেয়— এ কথা তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন।
আত্মকথনে তিনি জানান, চল্লিশ বছর বয়সের পরই তিনি লেখালেখি শুরু করেন। কারণ হিসেবে বলেন, বাংলা সাহিত্যকে তিনি কখনোই দীনদরিদ্র মনে করেননি; তাই কিছু যোগ করার মতো যথেষ্ট কিছু না থাকলে লেখালেখিতে তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। তিনি ননফিকশন লেখায় সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করেন, ফিকশনে কখনো হাত দেননি। তাঁর নিজের ভাষায়, “আমার প্রতিভার বাষ্পমাত্রও নাই”— এই স্বীকারোক্তি তাঁর বিনয়ের পরিচয়। সম্পাদক আহসান হাবীব ও সরদার জয়েনউদ্দীনের অনুপ্রেরণায় তিনি হয়ে ওঠেন শক্তিমান লেখক; তার আগে তিনি নিজেকে শিক্ষক হিসেবেই পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন।
শিক্ষক প্রসঙ্গে তিনি মনে করতেন— তিনি একজন সার্থক শিক্ষক। কারণ তিনি একাডেমিক কঠোরতার সঙ্গে রসিকতাপূর্ণ ও প্রাণবন্ত পাঠদান করাতেন ক্লাসরুমে। ব্যাকরণের মতো শুষ্ক বিষয়কে তিনি এমনভাবে পড়াতেন যে, অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররাও তাঁর ক্লাসে যোগ দিতে আসত। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন আদর্শ শিক্ষককে আজীবন শিক্ষার্থী থাকতে হয়; কিন্তু বাস্তবতা হলো অনেক শিক্ষক পড়াশোনাকে গুরুত্ব দেন না, যা শিক্ষাক্ষেত্রের সবচেয়ে বড় দৈন্যদশার কারণ। এ ক্ষেত্রে যতীন সরকারের কাছে সত্য গ্রহণ ও কঠিন সত্যকে ভালোবাসাই ছিল জীবনের উপদান। যে কারণে তিনি রবীন্দ্রনাথের দুই উক্তিকে জীবনদর্শন হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন—
“ভালো মন্দ যাহাই আসুক, সত্যেরে লও সহজে।”
“সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা।”
তাঁর লেখালেখি ও শিক্ষকতার সম্প্রসারণ— পাঠককে শিক্ষিত ও সচেতন করাই ছিল মূল চেতনা।
বাঙালি জাতিসত্তা ও সাংস্কৃতিক সংগ্রাম প্রসঙ্গে— তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, পাকিস্তান আমলে বাঙালি পরিচয় বহন করাই ছিল অপরাধ। ‘বাঙ্গাল’ শব্দটি অবজ্ঞাসূচকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে বলেই, মুক্তিযুদ্ধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে বাঙ্গালদের নিজেদের কৃতিত্ব প্রমাণ করতে হয়েছিল। দীনেশচন্দ্র সেনের ময়মনসিংহ গীতিকা সংগ্রহকে তিনি মনে করতেন বাঙালিকে অবজ্ঞার সঠিক জবাব। তাছাড়া বাঙালির আত্মপরিচয়ের সূত্র লুকিয়ে আছে তার ভাষার মধ্যে। যা হাজার বছরের হেনস্তা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বাধা সত্ত্বেও টিকে আছে। সৈয়দ, সুলতানের মতো কবিরা ধর্মীয় কাব্য রচনা করলেও ভাষা নিয়ে শত্রুভাবাপন্ন শক্তির সঙ্গে সংগ্রাম করতে হয়েছে বারংবার। শেষ পর্যন্ত বাঙালি ভাষাভাষীরাই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে— এ কৃতিত্ব প্রধানত বাঙ্গালদেরই।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে যতীন সরকার মনে করেন, বর্তমান সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই অনুষ্ঠানমুখী, প্রকৃত অর্থে সাংস্কৃতিক আন্দোলন কখনই গড়ে ওঠেনি। উদীচীর মতো সংগঠন শক্তিশালী করতে পারলে সাম্প্রদায়িকবাদ এত প্রবল হতো না। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সীমাবদ্ধতার কথাও তিনি প্রকাশ করেন। তবে তিনি মনে করেন, রাজনীতিকদের ব্যর্থতা যেখানে স্পষ্ট, সেখানে গণমাধ্যমই বরং অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
আত্মসমালোচনা ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জকে উপেক্ষা তিনি করেননি, বরং বিশ্বকবির ‘রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করোনি’ উদ্ধৃত করে প্রশ্ন তোলেন— বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরও কেন বাংলাবিরোধীরা প্রভাব বিস্তার করতে পারে? তাঁর মতে, এর কারণ বাঙালি এখনো পুরোপুরি বাঙালির মানুষ হয়ে উঠতে না পারা, তাই আত্মসমালোচনা জরুরি।
তার কাছে প্রাকৃতজনের স্বীকৃতিই ছিল শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেও তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার এসেছে জনগণের কাছ থেকে এ কথাই জোর দিয়ে বলেছেন বার বার। এ প্রসঙ্গে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার এক আতর বিক্রেতা তাঁর ১২-১৩ মিনিটের একটি বক্তব্য শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তিনি বক্তব্যের পরে যতীন সরকারের কাছে এসে বলেন, এতক্ষণ আপনি যা বললেন, তা ছিল আমার অন্তরের কথা। ফলে তার মনের কথা প্রকাশ করায় কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে বিনামূল্যে আতর উপহার দেন যতীন সরকারকে— আতর বিক্রেতার সাথে তার এ অভিজ্ঞতাকেই তিনি সর্বোচ্চ সম্মান প্রাপ্তি বলে মনে করতেন।
মানুষের জীবনকে সাধারণত একটি জৈবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়— জন্ম, বৃদ্ধি, বার্ধক্য ও মৃত্যু। কিন্তু যতীন সরকারের বয়ানে, জীবিত থাকা ও বেঁচে থাকার মধ্যে যে দার্শনিক বিভাজন উঠে এসেছে, তা জৈবিক সংজ্ঞার বাইরে গিয়ে মানব অস্তিত্বকে এক নতুন মাত্রায় বিচার করে। এখানে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া, খাদ্য গ্রহণ করা বা দৈহিক ক্রিয়াবিধি সচল রাখা যথেষ্ট নয়; বরং ‘বেঁচে থাকা’ বলতে বোঝানো হচ্ছে এক অবিরাম সৃজন, অগ্রগতি ও নিজস্ব মানসিক-আধ্যাত্মিক বিবর্তনের প্রক্রিয়া।
তাঁর মতে, জীবিত থাকা বনাম বেঁচে থাকার মধ্যে রয়েছে এক আমুল ব্যবধান। এ প্রসঙ্গে যতীন সরকার উল্লেখ জীবিত থাকা মানে হলো শরীরের অস্তিত্ব বজায় রাখা। এটি জৈবিক প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যক্তি কেবলমাত্র সময়ের স্রোতে ভেসে চলেছে। বেঁচে থাকা মানে হলো আত্ম-অতিক্রমণের যাত্রা— নিজেকে নতুন জ্ঞানে, ভাবনায়, সৃজনে ক্রমাগত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এখানে ব্যক্তি কেবল বেঁচে থাকছে না, বরং নিজের অস্তিত্বের অর্থ তৈরি করছে। এ ক্ষেত্রে যতীন সরকারের করা রবীন্দ্রনাথ উদাহরণে দেখা যায়, আশি বছর বয়সেও রবীন্দ্রনাথ নতুন ভাবনায় উজ্জীবিত হয়েছেন, সৃজনশীল ছিলেন, মানবিক ও বৌদ্ধিক বিকাশ ঘটিয়েছেন। তাই রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু দেহের, কিন্তু তাঁর বেঁচে থাকা চেতনার ধারাবাহিকতায় অব্যাহত।
তিনি উল্লেখ করেন, ধীরেন গঙ্গোপাধ্যায় একটা জায়গায় লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ সারাজীবন ‘বেঁচে ছিলেন’। সারাজীবন বেঁচে থাকার অর্থটা কী? এই প্রশ্নের তত্বতালাশ করতে গিয়ে তিনি আত্মআবিস্কার করেন যে— মানুষ জীবিত থাকে, কিন্তু বেঁচে থাকে খুব অল্প মানুষ। যারা প্রতিনিয়ত নিজেকে নিজে সামনের দিকে অগ্রসর করে নিয়ে যায়, পরিবর্তন করে, তাদেরটাই হলো বেঁচে থাকা। আর অন্যেরা জীবিত থাকে মাত্র। আত্মপ্রসঙ্গে উপস্থাপন করতে গিয়ে তিনি বলেন— আমি প্রকৃত প্রস্তাবে এখন আর বেঁচে নাই। আমি জীবিত আছি মাত্র। তবে হ্যাঁ, আমি একটু রহস্য করেই বলি। রবীন্দ্রনাথ তো আশি বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন। তা আমি তো রবীন্দ্রনাথের বড়, আমার বয়স সাতাশি। কাজেই রবীন্দ্রনাথকে তো আমি অপমান করতে পারি না। কাজেই আশি বছর বয়স পর্যন্তই প্রকৃত প্রস্তাবেই আমি বেঁচে ছিলাম…।
তাঁর কথা ধরে বলা যায়, সক্রিয় বেঁচে থাকা মানে সমাজে প্রভাব বিস্তার করা, জ্ঞান ও মূল্যবোধে অন্যদের সমৃদ্ধ করা। রবীন্দ্রনাথের সারা জীবনের কাজ এই উদাহরণকে জোরদার করে। সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, আত্ম-প্রকাশ ও নব-উদ্ভাবনের ধারাবাহিকতাই মানুষের বেঁচে থাকার শর্ত। এখানে স্থবিরতা মৃত্যুসমান।
যতীন সরকারের আত্মসমালোচনা— জীবনের মানে খোঁজার জন্য আছে একটি তীক্ষ্ণ সতর্কবার্তা। বেঁচে থাকার অর্থ হলো, সময়ের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত নতুনকে গ্রহণ করার সাহস রাখা, নিজের ভিতর পরিবর্তন আনার ক্ষমতা লালন এবং অন্যদের মাঝে সেই পরিবর্তনের স্ফুলিঙ্গ জ্বালানো। অন্যথায়, শ্বাস চললেও জীবন থেমে যায়।
নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার চন্দপাড়া গ্রামে ২ ভাদ্র ১৩৪৩, ১৮ আগস্ট ১৯৩৬ যতীন সরকার জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ চার দশক ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অধ্যাপনা করেছেন। প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্ৰন্থ সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা, বাংলাদেশের কবিগান, বাঙালীর সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সংগ্রাম, মানবমন মানবধর্ম ও সমাজবিপ্লব, গল্পে গল্পে ব্যাকরণ, দ্বিজাতিতত্ত্ব নিয়তিবাদ ও বিজ্ঞানচেতনা, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবী সমাচার, আমাদের চিন্তাচৰ্চার দিক-দিগন্ত, ধৰ্মতন্ত্রী মৌলবাদের ভূত ভবিষ্যৎ ভাষা সংস্কৃতি উৎসব নিয়ে ভাবনা চিন্তা, প্রাকৃতজনের জীবনদর্শন, সত্য যে আমার যেটুকু সাধ্য। সম্পাদিত গ্ৰন্থ : সোনার তরী, প্রসঙ্গ: মৌলবাদ, জালালীগীতিকা সমগ্ৰ। তিনি দুই মেয়াদে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ত্রৈমাসিক সমাজ অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পত্রিকার সম্পাদক । মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনবদ্য আত্মজীবনী পাকিস্তানের জন্ম মৃত্যু-দৰ্শন ‘প্রথম আলো বর্ষসেরা বই-এর পুরস্কারে সম্মানিত। সর্বোচ্চ রাষ্ট্ৰীয় সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। ‘সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা’, ‘পাকিস্তানের জন্ম মৃত্যু-দর্শন’, ‘বাঙালির সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য’, ‘প্রাকৃতজনের জীবনদর্শন’ তাঁর বহুলপঠিত বই।
১৩ আগস্ট ২০২৫ বুধবার দুপুর আড়াইটায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তার আগে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।
সাকিল মাসুদ
কবি ও সম্পাদক
১৪ আগস্ট ২০২৫
তথ্য সহায়তা:
*@IndependentTelevision: https://youtu.be/HR9Y2mvSxYM?si=KYpM9I_jT5Mipygr
*@thecoverstorybd: https://youtu.be/SicHmpOToNU?si=t6jdB3WMjzu3ECLs
*https://www.prothomalo.com/bangladesh/w9og1lzen3
Views: 0