বাঙালি জাতির মতো বিচিত্র আর কোনো জাতি মনে হয় না এ পৃথিবীতে আছে। বাঙালি জাতি নিয়ে লিখছি আর তাতে যদি বাঙালি নারীদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ না করি তাহলে মনে হবে তরকারিতে লবণ দেওয়া হয়নি।
বাঙালি রমণীরা অতিশয় মায়াবী হয়। বাঙালিয়ানার ছোঁয়া তাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত যেন লেগে থাকে। কালো ঘন কেশা এই রমণীদের রূপ আরো বাড়িয়ে দেয়। তাদের কোমলতা যেন ফুটন্ত গোলাপের পাপড়ির মতো। কিন্তু একবার রেগে গেলে ঠিক যেন ধানি লঙ্কা । ওই যে কথায় আছে না
" শাড়িতেই নারী"
এই উক্তিটি অবশ্য সব রমণীদের জন্যই প্রযোজ্য কিন্তু এটির জন্মই যেন বাঙালি রমণীদের জন্য হয়েছে। অনেকে বলে বাঙালি নারীরা নাকি কালো জাদু করতে পারে , কিন্তু কিভাবে সবাই কি তন্ত্রমন্ত্র জানে নাকি ! আর তন্ত্রমন্ত্র ছাড়া কি কালাজাদু হয় নাকি? বাঙালি রমণীদের কালা যদি করতে তন্ত্রমন্ত্র শিখতে হয় না, তাদের নিজস্ব কাজল পড়া চোখ দুটোই যথেষ্ট।
বাঙালি রমণীদের কথা বলার ভঙ্গিতে যেন এক ধরনের মাধুর্যতা আছে। এজন্যই হয়তো কেউ যখন এদের সাথে কথা বলে তখন সে কথা বলতেই থাকে । এদের কথা বলার ধরন বা ভঙ্গি এতটাই সরল এবং কোমল যে পাথরকেও যেন গলিয়ে জল বানাতে পারে।
তবে এই কোমলতা সরলতা তারা সর্বদা ধারণ করে না। যদি কখনো প্রশ্ন ওঠে তাদের আত্মসম্মানের, তখন যেন তারা খরগো হাতে মা তারার রূপ নেয়। সে সময় নিমিষেই তাদের সরলতা যেন কঠোরতায় প্রকাশ পায়।
এই হলেন আমাদের বাঙালি রমণীরা।
তারা যেমন কোমল, সরল, মিষ্টি ঠিক তেমনি পরিস্থিতির খোপে পড়ে তারা অধিক নিষ্ঠুর, কঠোরও হতে পারেন। কিন্তু আমাদের সমাজে তথাকথিত কিছু ভদ্রলোক এই রমণীদের মানুষ বলেই অনেক সময় গণ্য করে না । প্রথমেই বলেছিলাম, বাঙালি রমণীরা ফুলের মত , তাই বলে যে কেউ এসে ছিঁড়ে নেবে কিংবা আঘাত করবে এ তো হয় না । আর এমন দণ্ডনীয় অপরাধ করলেও আমাদের তথাকথিত সমাজের বেশ কিছু ভদ্রলোক রয়েছেন যারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন। কেউ প্রতিবাদ অবশ্য করেন না যদিও দুই একজন প্রতিবাদ করেন, তাদের আওয়াজ যেন ভিড়ের মাঝেই মিশে যায়।
অবশ্যই রমণীরা ফুলের মতো সে বাঙালি হোক কিংবা বিদেশি হোক । মালিরা যেমন বাগানের ফুলকে চারিদিকে ঘিরে রাখে বিভিন্নভাবে কোনো কিছুর আক্রমণ থেকে তার ফুলকে রক্ষা করার জন্য। ঠিক যেন সেপাই। কিন্তু এটা তো আমাদের সমাজের তথাকথিত ভদ্রলোকেরা করে থাকেন না, তারা বরঞ্চ ওই দেয়াল ভেঙে ফুলকে আঘাত করে।
এমনকি আমাদের সমাজে বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন কিছু ভদ্রলোক রয়েছে, যারা রমণীদের রমণীর মনে করা তো দূরের কথা, উল্টো ভোগ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করেন। মনে করেন না যে রমণীরাও মানুষ। এজন্যই রমণীরা আজ অত্যাচারিত!!
রমণীদের দুটো হাত যেন দশটি হাতের সমান। এই দুটো হাত দিয়ে তারা ঘরে- বাইরে, সংসার -চাকরি সবকিছু সামলায়। তবুও যেন প্রাপ্য মর্যাদাটা তারা পায় না। কখনো সুরক্ষিত অনুভবই করেন না তারা।
এই হলো আমাদের বাঙালি রমণী। রূপে গুণে সব দিক দিয়েই লক্ষ্মী










পাঠক মন্তব্য ও পর্যালোচনা০টি
আপনার মূল্যবান মতামত বা রিভিউ দিন
অতিথি হিসেবে মন্তব্য