থটস অফ বিল্লাল- এই নাম শুনলেই কানে বাজে এক অন্যরকম মিউজিক, এরপর নান্দনিক তালে, সাবলীল আত্মবিশ্বাসে হৃদয় নিংড়ানো কিছু ছন্দ-কথা। এভাবেই সোস্যাল মিডিয়ায় কন্টেন্ট তৈরি করে লাখো মানুষের অনুপ্রেরণার নাম- থটস অফ বিল্লাল।
সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল অনেকেই হয় নানান রকম কাজকর্মে। কোনো ঘটনার পক্ষে বা বিপক্ষে অনেকে যেসব ভাষা ব্যবহার করেন, অঙ্গ ভঙ্গি করেন তা সভ্য হতে চাওয়া মানুষ নিরুপায় হয়ে হজম করে। কিন্তু তারা ভাইরাল। প্রচন্ড প্রতাপশালী। দেখে মনে হবে এই বুঝি আস্ত খেয়ে ফেলবে।
অপর দিকে থটস অফ বিল্লাল - আলাদা। তার উচ্চারিত শব্দ সুন্দর এবং সম্ভ্রান্ত। ভাবনার গভীরতা প্রচলিত পথে হৃদয় নিংড়ানো। মানুষকে কাছে টানে। নিজস্ব টাইটেল মিউজিকও এখন ব্রান্ড। তার সবকিছুই এখন অনুপ্রেরণার উৎস।
'থটস অফ বিল্লাল' হচ্ছে বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। তার পুরো নাম বিল্লাল হোসেন। সোস্যাল মিডিয়ায় তিনি' থটস অফ বিল্লাল ' নামে জনপ্রিয়।
কিছুদিন আগেও তার অনুসারীরা যেভাবে তাকে অনুপ্রেরণার উৎস বলে হাজির করা শুরু করে, মনে হতো হয়তো তেল মারছে। কিন্তু আরো গভীর পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেল, এতো তেল নয়: থটস অফ বিল্লাল- হৃদয়ের সুপ্ত লাভা। যা হাজার বছর পর উদগীরিত হচ্ছে। অনন্য বিস্ময় - থটস অফ বিল্লাল। ছোট্ট ছোট্ট রিলস ভিডিও মানুষের, প্রধানত তরুণদের যেভাবে সাবলীল, প্রশান্ত এবং সম্মানের সাথে আকুলতা উদযাপন করায় তা- বিরল।
থটস অফ বিল্লাল - শব্দদূষণ এবং হিংসাত্মক প্রকাশনার বিরুদ্ধে সাঁতরে চলা এক নাম।
থটস অফ বিল্লাল - শহুরে জীবন প্রদর্শনের চেয়ে গ্রামীণ মানুষের কাছে উন্মুক্ত আশ্রয়। তাকে শহুরে ভাব প্রদর্শন করতে এখনো দেখিনি, যদিও তা দোষের কিছু নয়। এটা তার একটা বৈশিষ্ট্য মাত্র।
সোস্যাল মিডিয়ায় কন্টেন্ট নির্মানের ক্ষেত্রে থটস অফ বিল্লাল আলাদা একটা ধারা তৈরি করেছে। এর সুফল অনেক। কারন তার অনুসারী সম্প্রদায় তৈরি হয়েছে। এটা হাজারো ভাইরাল ক্রিয়েটরের কপালে জুটে না। অথচ তার প্রতিযোগীতা নেই। নিরবে নিভৃতে বয়ে চলেছেন মনের আনন্দে। সোস্যাল মিডিয়ায় তার অনন্য বিনম্র প্রতাপের জন্য আর কিছুদিন পর তাকে নিয়ে -পিএইচডি গবেষণা হবে।
ঢাকার আলোকিত জগতের বাসিন্দারা 'থটস অফ বিল্লাল'কে নিরাপদে উপলব্ধি করবে কিন্তু চিনবে না বলে গর্ব করবে।
আরো সহজভাবে বলতে গেলে, ঢাকার আদর্শ দার্শনিক এবং কবি 'ব্রাত্য রাইস্যু'র ভাবনা যেমন ধরা ছোঁয়ার বাইরে, কৌশলে তিনি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সফল সিইও। অপর দিকে থটস অফ বিল্লাল - মানুষ যা বলে, যা ভাবে তার কমন প্রকাশ। সেখানে মননের চেয়ে আবেগের আকুলতা বেশি।
ঢাকার মানুষের কাছে 'থটস অফ বিল্লাল ' হচ্ছে ব্রাত্য রাইস্যু'র প্রকাশ্যে 'হতে চাওয়া এবং হতে না চাওয়া'র স্বপ্ন।
...............................................................











পাঠক মন্তব্য ও পর্যালোচনা০টি
আপনার মূল্যবান মতামত বা রিভিউ দিন
অতিথি হিসেবে মন্তব্য