আমার শোক কেবল শোক নয়
ওটা এক মহাকর্ষীয় টান,
একটি কৃষ্ণগহ্বর,
যা নিউটনের আপেলকে টেনে নেয়,
গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ ভেঙে ফেলে,
আইনস্টাইনের স্থান-কালকেই বিকৃত করে
এক অনন্ত দীর্ঘশ্বাসে।
আমার ত্বকের নিচে
পৃথিবীর অন্তঃস্তর জ্বলে,
পীড়নের চাপ আর বেদনায়
টেকটোনিক প্লেটগুলো সরে যায়,
ভেতরটা কেঁপে ওঠে নীরবে,
লাভার নদী বয়ে চলে,
বুকে ক্রমে জন্মায় ফাটল,
যেমনটা ভূপৃষ্ঠে হয়
কোনো এক নীরব ভূমিকম্পের রাতে।
আমি এক মানচিত্র,
কিন্তু আমার সীমানা
প্রতিদিন বদলায়।
একদিন আমার হৃদয় ছিল ইউরেশিয়া,
অদম্য, বিস্তৃত;
এখন সেটা ভেঙে ভেঙে দ্বীপপুঞ্জ,
মালদ্বীপের মতো ডুবে যাচ্ছে,
উত্তাল অনুতাপের সাগরে।
চাঁদ ব্যঙ্গ করে,
সে জোয়ার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে,
কিন্তু আমার বুকে যে ঢেউ,
তা থামাতে পারে না।
আমি মঙ্গলের দিকে ফিসফিস করি,
“তোমার নদীগুলো কি শুকিয়ে গেছে
কারণ তোমার হৃদয়ও ফেটে গিয়েছিল?”
বৃহস্পতির ধুলোঝড় ঘুরপাক খায়,
কিন্তু গ্রেট রেড স্পটের চেয়েও
বড় ঝড় চলে আমার ভেতর।
আমার মনের ল্যাবরেটরিতে
আমি হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, শোক মিশিয়ে
একটা পানি বানাতে চাই,
যা একফোঁটায়
একা হয়ে থাকার বিষ খুঁজে নিতে পারে।
বুনসেন বার্নার জ্বলে,
কাচের বালতিতে ফাটল ধরে,
কারণ কোনো রাসায়নিক সমীকরণ
এই শূন্যতার ভার মেলাতে পারে না।
সাধারণ জ্ঞান বলে,
ব্রহ্মাণ্ড প্রসারিত হচ্ছে,
কিন্তু আমার নিজের পৃথিবী
কেন ধসে যাচ্ছে
একটি মৌন এককেন্দ্রিকতায়?
ইতিহাস বলে সাম্রাজ্য পতনশীল,
জীববিজ্ঞান বলে প্রজাতি খাপ খাইয়ে নেয়,
ভূগোল বলে নদী পাহাড় কেটে যায়,
কিন্তু আমার অন্তর্দৃশ্য রয়ে গেছে এক
একটি নীরব মরুভূমি,
যেখানে এমনকি বাংলা শব্দেরও
আর উপমা ফুরিয়ে যায়।
অবশেষে আমি দাঁড়িয়ে থাকি,
অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক অনুমান,
ওরিয়ন নক্ষত্রমণ্ডল চেয়ে দেখি,
মহাশূন্যের শীতল শূন্যতা অনুভব করি,
আর মৃদু স্বরে প্রশ্ন করি,
“আমি কি কেবল আরেকটা ব্যর্থ মহাজাগতিক পরীক্ষা?”










পাঠক মন্তব্য ও পর্যালোচনা১টি
আপনার মূল্যবান মতামত বা রিভিউ দিন
অতিথি হিসেবে মন্তব্যসুন্দর