অন্ধকার ঘরের দরজা (থ্রিলার গল্প)
রবীন জাকারিয়া
রাত তখন প্রায় বারোটা। শহরের একেবারে শেষ প্রান্তে কোলাহলমুক্ত ও নির্জন পুরোনো বাড়িটার দিকে তাকিয়ে সাগরের মেরুদণ্ড জুড়ে কেমন যেন ঠান্ডা শীতলতা নেমে এলো। পাঁচ বছর আগে এই বাড়ি থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছিল সাংবাদিক আরশাদ রহমান। তারপর থেকে বাড়িটা পরিত্যক্ত।
সাগর পেশায় ব্লগার। অদ্ভুত ও ভয়ংকর বিষয় নিয়ে ভিডিও বানিয়ে সে এখন বেশ জনপ্রিয় ও ভাইরাল। কয়েকদিন ধরে লোকজন বলছিল, গভীর রাতে ওই বাড়ির ভেতর আলো জ্বলে, কারও ফিসফিস শব্দ শোনা যায়।
ক্যামেরা অন করে থ্রিলার প্রিয় সাগর সেই বাড়ির ভেতরে ঢুকল।
চারদিকে ধুলো, ভাঙা আসবাব আর দেয়ালে পুরোনো রক্তের মতো কালচে দাগ। হঠাৎ ওপরতলা থেকে “ঠক… ঠক…” শব্দ ভেসে এলো।
সাগর ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই শব্দটা থেমে গেল।
একটা দরজা আধখোলা। ভেতর থেকে ঠান্ডা বাতাস আসছে।
দরজাটা ঠেলে খুলতেই সে দেখল, ঘরের মাঝখানে একটা পুরোনো টেবিল। টেবিলের ওপর একটা ডায়েরি।
ডায়েরির প্রথম পাতায় লেখা—
“যদি কেউ এটা পড়ে, তবে জেনে রাখো… আমি এখনও এখানে আছি।”
সাগরের গলা শুকিয়ে গেল।
পাতা উল্টাতেই সাগর দেখতে পেল আরশাদের হাতের লেখা—
“ওরা মানুষ না… রাত নামলে দেয়ালের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে…”
ঠিক তখনই তার ক্যামেরার স্ক্রিন ঝাপসা হয়ে গেল।
পেছন থেকে কারও ফিসফিস—
“তুমি চলে যাওনি কেন?”
সাগর ঘুরে দাঁড়াল।
কেউ নেই।
কিন্তু দরজাটা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেল।
হঠাৎ দেয়ালের ভেতর থেকে যেন অসংখ্য হাত বেরিয়ে আসতে লাগল। কালো, রক্তমাখা হাত!
সাগর চিৎকার করে দরজার দিকে দৌড় দিল। দরজা খুলছে না।
ক্যামেরা মাটিতে পড়ে গেল। লাইভ ভিডিওতে শুধু দেখা যাচ্ছিল সাগরের আতঙ্কিত মুখ আর অন্ধকারে নড়াচড়া করা ছায়া।
তারপর হঠাৎ সব নিস্তব্ধ।
পরদিন সকালে পুলিশ বাড়িটায় গিয়ে শুধু একটা ক্যামেরা খুঁজে পেল।
ভিডিওর শেষ ফ্রেমে দেখা গেল দেয়ালের ওপর রক্ত দিয়ে লেখা—
“এখন সাগরও আমাদের সঙ্গে আছে…”
📖 আইডিয়া প্রকাশনবই • ইবুক • সম্মানি — মুক্তচিন্তার অসীম সীমানা
https://www.ideaabd.com/ideapatra/andhkar-ghrer-drja
তারিখ: 18 Sep, 2026
গল্প
আইডিয়া সাহিত্যপত্র•৩ মিনিট পাঠ•৩২৮ শব্দ
অন্ধকার ঘরের দরজা
থ্রিলার গল্প, ভুতুড়ে ও রোমাঞ্চকর
19 Aug, 2026 • 12:46 AM১৭৫ পঠিত

কভার চিত্র: অন্ধকার ঘরের দরজাআইডিয়া সাহিত্য সাময়িকী
দরজাটা ঠেলে খুলতেই সে দেখল, ঘরের মাঝখানে একটা পুরোনো টেবিল। টেবিলের ওপর একটা ডায়েরি।
ডায়েরির প্রথম পাতায় লেখা—
“যদি কেউ এটা পড়ে, তবে জেনে রাখো… আমি এখনও এখানে আছি।”
সাগরের গলা শুকিয়ে গেল।
পাতা উল্টাতেই সাগর দেখতে পেল আরশাদের হাতের লেখা—
“ওরা মানুষ না… রাত নামলে দেয়ালের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে…”
ঠিক তখনই তার ক্যামেরার স্ক্রিন ঝাপসা হয়ে গেল।
পেছন থেকে কারও ফিসফিস—
“তুমি চলে যাওনি কেন?”
সাগর ঘুরে দাঁড়াল।
কেউ নেই।
কিন্তু দরজাটা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেল।
হঠাৎ দেয়ালের ভেতর থেকে যেন অসংখ্য হাত বেরিয়ে আসতে লাগল। কালো, রক্তমাখা হাত!
সাগর চিৎকার করে দরজার দিকে দৌড় দিল। দরজা খুলছে না।
ক্যামেরা মাটিতে পড়ে গেল। লাইভ ভিডিওতে শুধু দেখা যাচ্ছিল সাগরের আতঙ্কিত মুখ আর অন্ধকারে নড়াচড়া করা ছায়া।
তারপর হঠাৎ সব নিস্তব্ধ।
পরদিন সকালে পুলিশ বাড়িটায় গিয়ে শুধু একটা ক্যামেরা খুঁজে পেল।
ভিডিওর শেষ ফ্রেমে দেখা গেল দেয়ালের ওপর রক্ত দিয়ে লেখা—
“এখন সাগরও আমাদের সঙ্গে আছে…”
❦
লেখকের জন্য পাঠক সম্মানি
লেখাটি পড়ে ভালো লাগলে আপনার সামান্য অনুপ্রেরণা ও সম্মানি লেখকের সৃষ্টিশীল পথচলাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
বিকাশ নম্বর: 01833775779• সম্মানির ৭০% লেখক পাবেন, ৩০% সাইট মেইনটেনেন্স









পাঠক মন্তব্য ও পর্যালোচনা২টি
আপনার মূল্যবান মতামত বা রিভিউ দিন
অতিথি হিসেবে মন্তব্যআবারো দেখা যাচ্ছে যে লেখকের নাম মোঃ কামরুজ্জামান। এই প্রবলেমটা সলভ করা যায় না
অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আইডিয়া প্রকাশনকে গল্পটা প্রকাশের জন্য এবং সাথে সকল পাঠককে জানাই নিরন্তর ভালবাসা।