যখন ছোট্ট ছিলাম-
আমার মা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঝুটা কাম করত।
কখনাে কখনাে ক্ষেতখামারে কামলা কিষ্যানের কাজও করেছে।
ঈদে আমার মা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফিতরা চাইলে
মানুষ নির্দ্বিধায় একমুঠাে চাল দিতাে
আর যাকাত চাইলে শাড়ি ।
অপবাদ লুকােতে মা চুপিচুপি সেই চাল-শাড়ি
হাটে বেচে টাকা জমিয়ে আমার জন্য খাতা-কলম কিনত।
যখন এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপে টাকার অভাব;
বাড়িতে নিয়মিত কাঁথা সেলাই করা
আমার বড় বােনও
নিরুপায় হয়ে মায়ের সাথে
অন্যের ক্ষেত-খামারে কামলা খাটত সকাল-সন্ধ্যা।
মনে পড়ে আটানব্বই সালের বিভীষিকা।
বন্যা শেষ হতে না হতেই আশ্বিণ-কার্তিকের মঙ্গা।
সেই সময় মায়ের হাতে কোনাে কাজ নেই বোনও বেকার।
চারদিকে শনশন করে অভাব আর অভাব।
গেরস্থরাও হা-হুতাশ শুরু করে দিয়েছে অভাবে।
অনাহারী অসংখ্য মানুষের মতো জীবিত আমরা।
আর ক’দিনপর এইচএসসি পরীক্ষা,
না খেয়ে থাকতে থাকতে একদুপুরে মাথা ঘুরে পড়ে গেছি।
বোনটা আমার মাথায় পানি ঢালে
আর মা এক বাটি ভাতের ফেনের জন্য এ পাড়া ওপাড়া ঘুরে বেড়ায়।
পাড়াপ্রতিবেশীর সাহায্যে তখন জানটা বাঁচে।
তারপর এইচএসসি খুব ভালাভাবে পাশ করার পর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি।
নিজের পড়াশুনার পাশাপাশি
গরীবের গর্ব টিউশনি করে চলে জীবন।
নিজে চলতে পারি আর নাইবা পারি মাস শেষে
গ্রামে মা আর বোনের জন্য টাকা পাঠাতে মন আকুলবিকুল করে।
কপাল ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকাতেই
পেয়ে গেলাম সরকারি চাকরি।
মা আর বোন বিসিএস বোঝে না-
ওদের বলি সরকারি কলেজে মাস্টারি।









পাঠক মন্তব্য ও পর্যালোচনা০টি
আপনার মূল্যবান মতামত বা রিভিউ দিন
অতিথি হিসেবে মন্তব্য