আইডিয়া প্রকাশন
আইডিয়া প্রকাশনবই • ইবুক • সম্মানি — মুক্তচিন্তার অসীম সীমানা
Welcome, Guest!
Idea Prokashon

বই কেনা, অর্ডার ট্র্যাকিং ও প্রকাশনা সেবায় যুক্ত হতে একাউন্টে প্রবেশ অথবা নতুন রেজিস্ট্রেশন করুন।

শিশু-কিশোর সাহিত্য১৫অনুবাদ১৪আঞ্চলিক ভাষা ও লোকসাহিত্যউপন্যাসসাহিত্যপত্রিকা/ সাময়িকীকৌতুকজীবনী / সাহিত্যিক জীবনীআঞ্চলিক ইতিহাসভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসশিশু-কিশোর: রহস্য, গোয়েন্দা, ভৌতিক, থ্রিলার ও অ্যাডভেঞ্চারচিরায়ত উপন্যাসশিশু সাহিত্যব্যবসায় শিক্ষা (Business Education)ব্যাংকিং অর্থনীতিগল্পপ্রবন্ধ-নিবন্ধডায়েরি ও চিঠিপত্র সংকলনবিজ্ঞানী ও গণিতবিদশিশু-কিশোর গল্পউঠতি বয়সীদের গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমায়া সভ্যতাবিশ্বসাহিত্য / জার্মান সাহিত্যকিশোর ক্লাসিকসকাব্যনাট্যগল্পসমগ্রসায়েন্স ফিকশনরহস্য উপন্যাসমুক্তিযুদ্ধউপন্যাস অনুবাদদর্শনপ্রবন্ধশ্রেষ্ঠ কবিতাপ্রকৃতি ও পরিবেশকবিতাভৌগলিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যআইন ও বিচারবিবিধ
গ্রাহক সহায়তা কেন্দ্র:সকাল ৯টা - রাত ১১টা
ভাষা নির্বাচন / Language:বাংলা
থিম মোড / Theme:
প্রবন্ধ-নিবন্ধ
আইডিয়া সাহিত্যপত্র১২ মিনিট পাঠ১,৮৮৫ শব্দ

মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট, মঙ্গোল সাম্রাজ্য ও ইতিহাসের আয়নায় চীন

মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট, মঙ্গোল সাম্রাজ্য ও ইতিহাসের আয়নায় চীন
কভার চিত্র: মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট, মঙ্গোল সাম্রাজ্য ও ইতিহাসের আয়নায় চীনআইডিয়া সাহিত্য সাময়িকী
চীনের উত্তরে এবং রাশিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত দেশ মঙ্গোলিয়া। বর্তমান বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্রে দেশটি তুলনামূলকভাবে ছোট জনসংখ্যার হলেও আয়তনে বিশাল এবং ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি মঙ্...
চীনের উত্তরে এবং রাশিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত দেশ মঙ্গোলিয়া। বর্তমান বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্রে দেশটি তুলনামূলকভাবে ছোট জনসংখ্যার হলেও আয়তনে বিশাল এবং ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি মঙ্গোলিয়ার ৫৮ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট উখনাগিন খুরেলসুখকে একটি ব্যতিক্রমী কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসতে দেখা গেছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে ১০০ কেজি ওজনের বারবেল দিয়ে একটানা ২০টি বেঞ্চ প্রেস করতে দেখা যায়। ঘটনাটি একটি সামরিক ইউনিট পরিদর্শনের সময় ঘটে। তিনি ২০২১ সাল থেকে মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। তাঁর সরকারি জীবনী অনুযায়ী, ১৯৮৯–১৯৯০ সালে তিনি মঙ্গোলিয়ান পিপলস আর্মির ১৫২ নম্বর ইউনিটে রাজনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বডিবিল্ডিং ও মার্শাল আর্টের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের আগ্রহের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
BRICS প্রথমে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনকে নিয়ে গঠিত একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতার ধারণা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে; পরে দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্ত হয়। সময়ের সঙ্গে এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, উন্নয়ন ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালের নয়াদিল্লি সম্মেলনে BRICS-এর সদস্য হিসেবে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে এটি আগের পাঁচ দেশের সীমায় নেই।
তবে BRICS-এর সদস্য হওয়ার একমাত্র শর্ত কোনো দেশের ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা—এমন ধারণা সঠিক নয়। অর্থনীতি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্ব, রাজনৈতিক সম্পর্ক, উন্নয়ন সম্ভাবনা এবং সদস্যদের সম্মতি—বিভিন্ন বিষয় এখানে বিবেচ্য। ইরান মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকেও BRICS-এর সদস্য হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবকে ২০২৩ সালে নতুন সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তার সদস্যপদ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের নয়াদিল্লি সম্মেলনের সদস্য তালিকায় সৌদি আরবকে রাখা হয়নি। বাংলাদেশ BRICS-এর পূর্ণ সদস্য ছিল না; তবে বাংলাদেশ BRICS-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।
এবার আসা যাক সেই মঙ্গোলিয়ার আদি কথায়।
চীনের উত্তরে ও রাশিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত মঙ্গোলিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে কম জনঘনত্বের দেশগুলোর একটি। এর আয়তন প্রায় ১৫ লাখ ৬৪ হাজার বর্গকিলোমিটার—বাংলাদেশের আয়তনের প্রায় দশ গুণেরও বেশি। অথচ জনসংখ্যা মাত্র প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়নের কাছাকাছি। দেশটির দক্ষিণাংশে বিস্তৃত গোবি মরুভূমি। গোবি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ মরুভূমি; তবে একে পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম মরুভূমি বলা ঠিক নয়। মঙ্গোলিয়ার বিশাল ভূখণ্ডের বড় অংশই শুষ্ক তৃণভূমি, মরুভূমি ও পর্বতাঞ্চল।
এই ভূখণ্ড পৃথিবীর প্রাগৈতিহাসিক জীবাশ্ম গবেষণার জন্যও বিখ্যাত। মঙ্গোলিয়ার গোবি অঞ্চলে ডাইনোসরের অসংখ্য জীবাশ্ম, ডিম ও কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়েছে। যাযাবর পশুপালন মঙ্গোলীয় সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, কঠিন জলবায়ু ও পশুপালননির্ভর জীবনধারাই বহু শতাব্দী ধরে এখানকার মানুষের সামাজিক ও সামরিক চরিত্র গড়ে তুলেছে।
১২০৬ খ্রিষ্টাব্দে মঙ্গোলীয় বিভিন্ন গোত্রের এক বৃহৎ কুরুলতাই বা সভায় তিমুজিনকে মঙ্গোলদের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং তিনি চেংগিস খান উপাধি গ্রহণ করেন। তিমুজিনের জন্মসাল নিয়ে ঐতিহাসিক মতভেদ আছে; প্রচলিত গবেষণায় প্রায় ১১৬২ খ্রিষ্টাব্দকে বেশি গ্রহণ করা হয়। ১১৬৭ সালকে নিশ্চিত জন্মসাল হিসেবে লেখা ঠিক নয়।
চেংগিস খানের নেতৃত্বে মঙ্গোলরা দ্রুত একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। ১২০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মঙ্গোল সাম্রাজ্য পরবর্তী এক শতাব্দীর মধ্যে পৃথিবীর ইতিহাসের বৃহত্তম সংলগ্ন স্থল সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। সর্বোচ্চ বিস্তারের সময় এর আয়তন প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
চেংগিস খান প্রথমে উত্তর চীনের জিন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান চালান। ১২১৫ সালে মঙ্গোল বাহিনী ঝোংদু—বর্তমান বেইজিং—দখল করে। এরপর মধ্য এশিয়া, পারস্য ও রুশ ভূখণ্ডের দিকে মঙ্গোলদের অভিযান বিস্তৃত হয়।
চেংগিস খানের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরিরা সাম্রাজ্য আরও বিস্তৃত করেন। বিশেষ করে তাঁর পুত্র ওগেদেই খানের শাসনামলে মঙ্গোল সামরিক অভিযান ইউরোপের দিকে অগ্রসর হয়। তবে বলা ঠিক হবে না যে ওগেদেই নিজে রাশিয়া, হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ড জয় করেছিলেন। তাঁর শাসনামলে বাতু খান, সুবুতাইসহ মঙ্গোল সেনাপতিরা রুশ ভূখণ্ড, পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিতে অভিযান পরিচালনা করেন। ১২৪০ সালে কিয়েভ মঙ্গোল বাহিনীর হাতে পতিত হয়। ১২৪১ সালে পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিতে মঙ্গোলদের বড় ধরনের অভিযান হয়। কিন্তু ১২৪১ সালে ওগেদেই খানের মৃত্যুর পর মঙ্গোল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার সংকটের কারণে ইউরোপে বড় ধরনের অগ্রযাত্রা থেমে যায়।
পরবর্তী সময়ে মঙ্গোলরা মধ্যপ্রাচ্যেও অগ্রসর হয়। ১২৫৮ সালে হুলাগু খান বাগদাদ দখল করেন এবং আব্বাসীয় খিলাফতের রাজনৈতিক কেন্দ্রের পতন ঘটে। তবে মঙ্গোলরা মিশর জয় করতে পারেনি; ১২৬০ সালের আইন জালুতের যুদ্ধে মামলুকরা মঙ্গোল বাহিনীকে পরাজিত করে।
চেংগিস খানের নাতি কুবলাই খান ১২৬০ সালে মঙ্গোল সাম্রাজ্যের মহান খান হন, যদিও তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে সাম্রাজ্যের ভেতরে বিরোধ ছিল। ১২৭১ সালে কুবলাই খান চীনে ইউয়ান রাজবংশ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এরপর দীর্ঘ যুদ্ধের পর ১২৭৯ সালে দক্ষিণের সঙ রাজবংশ পরাজিত হলে সমগ্র চীন তাঁর নিয়ন্ত্রণে আসে।
কুবলাইয়ের শাসনামলে মঙ্গোল সাম্রাজ্য তার সর্বোচ্চ ভৌগোলিক বিস্তারের কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে জাপান ও জাভা মঙ্গোলদের প্রভাব বা অভিযানের আওতায় এলেও তারা সেগুলো স্থায়ীভাবে জয় করতে পারেনি। একইভাবে মিশরও তাদের সাম্রাজ্যের অংশ হয়নি।
১৩৬৮ সালে চীনে মঙ্গোল ইউয়ান রাজবংশের পতন ঘটে এবং মিং রাজবংশ ক্ষমতায় আসে। এর পর মঙ্গোল সাম্রাজ্য বিভিন্ন স্বাধীন খানাতে বিভক্ত হয়ে যায়।
এখানে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখা দরকার—মঙ্গোল এবং মুঘল এক জিনিস নয়। সমরখন্দকেন্দ্রিক তৈমুর লং ছিলেন তুর্কি-মঙ্গোল বংশোদ্ভূত শাসক এবং তৈমুরীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৩৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৪০৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বংশধর জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন।
বাবর পিতৃসূত্রে তৈমুরের বংশধর এবং মাতৃসূত্রে চেংগিস খানের বংশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাই মুঘল রাজবংশকে তুর্কি-মঙ্গোল বা তুর্কো-মঙ্গোল ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তবে “ভারতের মুঘলরা সরাসরি আজকের মঙ্গোলিয়ার মঙ্গোল শাসকদেরই উত্তরসূরি”—এভাবে সরলীকরণ করা ইতিহাসসম্মত নয়।
মুঘল সাম্রাজ্য ১৫২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৭০৭ সালে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর এর রাজনৈতিক শক্তি দ্রুত দুর্বল হতে থাকে। তবে মুঘল রাজবংশের আনুষ্ঠানিক অস্তিত্ব ১৮৫৭ সালের ভারতীয় বিদ্রোহ পর্যন্ত ছিল। ইউরোপীয় বণিকদের ভারত আগমনও মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের একমাত্র কারণ ছিল না। রাজনৈতিক বিভাজন, আঞ্চলিক শক্তির উত্থান, অর্থনৈতিক ও সামরিক পরিবর্তন এবং পরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শক্তিবৃদ্ধি—সব মিলিয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
চীনকে “২৩০০ বছর ধরে কখনো ভাঙেনি”—এ কথাও ইতিহাসসম্মত নয়। চীনের ইতিহাসে বহুবার রাজনৈতিক বিভাজন হয়েছে—যেমন তিন রাজ্যের যুগ, উত্তর ও দক্ষিণ রাজবংশের যুগ, পাঁচ রাজবংশ ও দশ রাজ্যের যুগসহ আরও অনেক সময়। তবে সত্য হলো, চীনা সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বারবার রাজনৈতিক বিভাজনের পরও পুনরায় বৃহৎ রাজনৈতিক একতায় ফিরে এসেছে।
খ্রিষ্টপূর্ব ২২১ সালে ছিন বা Qin রাজ্যের শাসক ইং ঝেং প্রতিদ্বন্দ্বী রাজ্যগুলোকে পরাজিত করে চীনকে একীভূত করেন এবং নিজেকে ছিন শি হুয়াং—প্রথম সম্রাট—ঘোষণা করেন। চীনের বর্তমান ইংরেজি নাম China-এর সঙ্গে Qin নামের সম্পর্ক থাকার তত্ত্বটি বহুল প্রচলিত ও শক্তিশালী হলেও এটিকে একেবারে চূড়ান্ত ও বিতর্কহীন সত্য বলা যায় না; গবেষণায় এ নিয়ে ভাষাতাত্ত্বিক বিতর্ক রয়েছে।
চীনের মহাপ্রাচীরকে শুধু ছিন শি হুয়াংয়ের তৈরি একটি ৬৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ দেয়াল হিসেবে বর্ণনা করাও সঠিক নয়। ছিন শি হুয়াংয়ের সময় উত্তর সীমান্তের আগের বিভিন্ন প্রাচীর ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত ও সম্প্রসারিত হয়েছিল। পরবর্তী বহু রাজবংশে নতুন নতুন অংশ নির্মিত ও পুনর্নির্মিত হয়। বর্তমানে চীনের মহাপ্রাচীর বলতে বিভিন্ন যুগে নির্মিত ও সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষা কাঠামোর বিশাল সমষ্টিকে বোঝানো হয়। বিভিন্ন শাখা, পরিখা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা স্থাপনা মিলিয়ে মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ হাজার ১৯৬ কিলোমিটার হিসেবে পরিমাপ করা হয়েছে। সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত অংশগুলোর বড় অংশ মিং রাজবংশের আমলে নির্মিত।
আর “তিন লাখ যুদ্ধবন্দী দাস দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছিল”—এটিও অতিরঞ্জিত সরলীকরণ। শ্রমিকদের মধ্যে সৈন্য, কৃষক, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও বিভিন্ন ধরনের শ্রমিক ছিল। মিং রাজবংশের সময় ১৩৬৮ থেকে ১৬৪৪ সাল পর্যন্ত মহাপ্রাচীরের বহু গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্মিত ও পুনর্নির্মিত হয়। তাই ১৪৪৮ সালকে পুরো মহাপ্রাচীরের পুনর্নির্মাণের সাল বলা ঠিক নয়।
চীনের ইতিহাসে বিদেশি উপনিবেশের কথাও এসেছে। হংকং ছিল ব্রিটিশ শাসনের অধীনে, আর ম্যাকাও ছিল পর্তুগিজ প্রশাসনের অধীনে। হংকং ১৯৯৭ সালে এবং ম্যাকাও ১৯৯৯ সালে চীনের কাছে ফিরে যায়। এগুলো চীনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু হংকংকে পর্তুগালের এবং ম্যাকাওকে ব্রিটেনের উপনিবেশ বলা যাবে না।
একসময় মঙ্গোলিয়ার তৃণভূমি থেকে উঠে আসা যাযাবর অশ্বারোহীরা ইউরেশিয়ার বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তাদের সাম্রাজ্য চীন, মধ্য এশিয়া, রাশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল, পূর্ব ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু ইতিহাসের চাকা ঘুরেছে।
একসময় যে মঙ্গোলরা চীনের বিশাল অংশ শাসন করেছিল, সেই মঙ্গোলিয়াই পরবর্তী সময়ে চীনা ও রুশ ভূরাজনীতির মাঝখানে পড়ে যায়। ১৯১১ সালের বিপ্লবের পর মঙ্গোলিয়া চীনা সাম্রাজ্যিক শাসন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে; ১৯২১ সালের বিপ্লবের পর সোভিয়েত রাশিয়ার প্রভাব প্রবল হয়ে ওঠে। ১৯২৪ সালের ২৫ নভেম্বর মঙ্গোলিয়ান পিপলস রিপাবলিক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই “১৯২৪ সালে চীনের কাছ থেকে সরাসরি স্বাধীনতা লাভ”—এই বাক্যটি অতিরিক্ত সরলীকৃত; মঙ্গোলিয়ার স্বাধীনতার প্রক্রিয়া ১৯১১ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত নানা ধাপে এগিয়েছে এবং সোভিয়েত রাশিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরবর্তীকালে মঙ্গোলিয়া দীর্ঘ সময় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সোভিয়েত প্রভাববলয়ে ছিল। ১৯৯০ সালের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পর দেশটি বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যায়।
আজকের মঙ্গোলিয়া আর চেংগিস খানের সাম্রাজ্য নয়। কিন্তু তার বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, ঘোড়সওয়ার সংস্কৃতি, যাযাবর ঐতিহ্য এবং অতীতের সাম্রাজ্যিক স্মৃতি এখনো দেশটির জাতীয় পরিচয়ের গভীরে বেঁচে আছে।
আর সেই ইতিহাসেরই এক অদ্ভুত প্রতীক যেন বর্তমানের ৫৮ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট উখনাগিন খুরেলসুখ—যিনি একদিকে আধুনিক রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, অন্যদিকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও শারীরিক কসরতের ঐতিহ্যকে নিজের জীবনযাপনের অংশ করে রেখেছেন।
ইতিহাসের এক প্রান্তে চেংগিস খানের ঘোড়সওয়ার বাহিনী, আর অন্য প্রান্তে আধুনিক মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্টের ১০০ কেজি বেঞ্চ প্রেস—দুই যুগের মধ্যে পার্থক্য আকাশ-পাতাল হলেও একটি বিষয় যেন একই রয়ে গেছে: মঙ্গোলিয়ার ইতিহাসে শক্তি, সাহস ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার দীর্ঘ ছাপ।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
পড়ুন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

লেখকের জন্য পাঠক সম্মানি

লেখাটি পড়ে ভালো লাগলে আপনার সামান্য অনুপ্রেরণা ও সম্মানি লেখকের সৃষ্টিশীল পথচলাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

বিকাশ নম্বর: 01833775779• প্রাপ্ত সম্মানি সম্পূর্ণভাবে ওয়েবসাইট ও মুক্ত সাহিত্য চর্চার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হবে
পাঠক মন্তব্য ও পর্যালোচনা০টি
আপনার মূল্যবান মতামত বা রিভিউ দিন
অতিথি হিসেবে মন্তব্য
৫ স্টার (চমৎকার)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম পাঠক মন্তব্যটি লিখুন!
আপনিও কি আইডিয়াপত্রে লিখতে চান?

আপনার জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ, কবিতা, বইয়ের পর্যালোচনা ও সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করতে আমাদের লেখক পোর্টালে যুক্ত হোন।

রেজাউল করিম মুকুল
রক
রেজাউল করিম মুকুল

আইডিয়া সাহিত্যপত্র লেখক ও গবেষক

নির্বাচিত অংশ শুনুন
অডিওবুক পাঠ০%
বাক্য ১ / ১
আমার শপিং কার্ট
০ টি পণ্য
আপনার কার্ট খালি আছে

পছন্দের বই খুঁজে নিয়ে কার্টে যুক্ত করুন।

বইসমূহ দেখুন
পণ্যের মোট মূল্য (Subtotal):৳০
ডেলিভারি চার্জ:৳120
সর্বমোট বিল:৳০
বিস্তারিত কার্ট পেজ দেখুন →
নির্বাচিত অংশ শুনুন
অডিওবুক পাঠ০%
বাক্য ১ / ১